অ্যান্ডু কার্নেগী কেন এতো সফল হয়েছিলেন ? তাঁর সফলতার গোপন চাবিকাঠি কি ? কেন তাকে ইস্পাত সাম্রাজ্যের রাজা বলা হতো ? গোঁড়ার দিকে তিনি ইস্পাত তৈরির ব্যাপারটা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। শয়ে শয়ে কর্মচারী তাঁর হয়ে কাজ করতেন। তারা বরং ইস্পাত সম্পর্কে অনেক বেশী অভিজ্ঞ ও পণ্ডিত ছিলেন অ্যান্ডু কার্নেগী থেকে।


কিন্তু অ্যান্ডু কার্নেগী একটি বিষয় জানতেন, কীভাবে কোন মানুষকে কোথায় ব্যবহার করতে হবে। দশ বছর বয়সে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, মানুষের মনের মধ্যে একটা অদ্ভুত দুর্বলতা আছে, তা হলো – নিজের নামের প্রতি অত্যধিক আগ্রহ। পৃথিবীর সমস্ত মানুষ নিজের নামকেই সব থেকে বেশী ভালোবাসে। অপরের মুখে এই নাম উচ্চারিত হলে সব থেকে বেশী খুশী হয়। যদি কেউ এই নামটা স্মরণে রাখে, তাহলে মানুষটি উৎসাহ উদ্দিপানার সীমা থাকে না। আর, যদি কেউ নামটা ভুলে যায়, তাহলে লোকটি ভাবতেই পারেন, উনি আমাকে আমার প্রাপ্য সম্মান দিচ্ছেন না।


রাস্তার ধারে শুয়ে থাকা ভিখারী থেকে শতকোটি টাকার মালিক, দু’জনেরই একটি বিষয়ে চরম দুর্বলতা আছে, তা হলো, তাঁরা তাঁদের নামটাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ভালোবাসেন।


অ্যান্ডু কার্নেগী যে অতবড়ো নেতা হতে পেরেছিলেন, তার অন্তুরালে ছিল তাঁর এই আশ্চর্য ক্ষমতা। তিনি সমস্ত বন্ধুবান্ধবদের প্রথম নাম ধরে ডাকতেন। তিরিশ হাজার শ্রমিককে নাম ধরে ডাকতে পারতেন। তিনি অহংকার করে বলতেন, যতদিন তিনি এই বিশাল ইস্পাত সাম্রজ্যের সম্রাট ছিলেন, একদিনের জন্য শ্রমিক ধর্মঘট হয়নি।


ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্ট বিশ্বাস করতেন, মানুষের সাথে সুসম্পর্ক বজায় না রাখলে কেউ জীবনে সফল হতে পারবে না। আর এই পথে প্রথমেই একজন মানুষের নাম মনে রাখতে হবে। তার নামটাকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে ভাবতে হবে। নাম মনে রাখার দক্ষতা রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


"যে কোন লোকের কাছে তার নাম হলো সব থেকে মিষ্টি শব্দ"